ফেলে আসা JPI র সেই দিনগুলি ছিল কত প্রাণবন্ত ও রঙীন | মনে আছে প্রথম দিন, ভয়ে ভয়ে হোষ্টেলে পা রাখা, সাথে বেডিং - কারা যেন বলেছিলো বড় ভয়ানক হোষ্টেলের র্যাগিং | প্রথম দিনেই দাদারা ডাক দিলো, শোনালো নিয়মাবলী- নতুনেরা করবে পরিচয় - প্রত্যেকের ঘরে ঢুকে যারা হোষ্টেলের প্রবীন | ছিল সাবধান বানী , একবার পরিচয়ে নাম মনে রাখা, সাথে মুখখানি | তার অন্যথা হলে, জানবে শাস্তি আছে কপালে, ভয়ে ভয়ে থাকি আমি, কি জানি কি হয়? এভাবেই কত দিন, কত রাত কেটে যায়, নোটবুক ভরে যায় নামের নামতায়, যত মুখ তত দুখ, আমি যে কি করি হায় | কত কীর্তন, ছড়া, গালি শিখে আইনাইষ্টিন টেবিলে যায় বুঝি পিঠ ঠেকে, অবশেষে একদিন এলো যে সুদিন- নবীন বরনের বেশে | সেদিনই প্রথম চুম্বন গ্লাসে, তারপর কবে যেন সে চুমুক হয় গেল পাতিয়ালা- এলো আমাদের পালা- নবীন বরণ করার \ সন্ধ্যায় মন রঙ্গীন, ড্রয়িং রুমে, স্টিরিও বাজিয়ে নাচি ধিন ধিন | হন্চুস খেলবি আয় ডাক দিল কে যে \হঞ্চুসে যে কি যাদু, সেটা জানে অনুপ, বিপ্লব,অভি, কাজু, আরো ভাল জানে শংকর দাদু | পরীক্ষা কড়া নাড়ে, সারা বছরের ফেলে রাখা ড্রয়িং ঘাড়ে চড়ে, কত রাত জেগে পরে,কাঁচের বাক্সে আলো ধরে, সেই ড্রয়িং তীরে ভেরে | নরেনদার দোকান ছিল আরেক আকর্ষন, দল বেঁধে টিফিন করতে আমরা যেতাম ক'জন | সন্ধ্যাবেলায় ভেঙুয়াঝাড়ে আবার একসাথে, সিক্সটি, সেভেনটির বাংলা প্রেম, চানাচুর হাতে | দাদার সোনা বাঁধানো দাঁত একবার গ্যালো হারিয়ে, বমনে খুঁজে পেল ঘেঁটে জলে ধুয়ে | কেটে গেছে কত বছর,স্মৃতিও হয়েছে ফিকে, ভূলতে পারিনি তবু সেই দিনগুলিকে |